The Justice Corner is a leading law firm in Bangladesh, offering specialized legal services to both local and international clients. We serve as trusted advisors to prominent businesses, companies, and banks.

Blog Details

বাংলাদেশে মূলধনী মুনাফা কর: করবর্ষ ২০২৬-২৭ এর পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

বাংলাদেশে মূলধনী মুনাফা কর: করবর্ষ ২০২৬-২৭ এর পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

বাংলাদেশে কোনো মূলধনী পরিসম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করে যে লাভ হয়, তা-ই মূলধনী মুনাফা। আয়কর আইন, ২০২৩ এর ষষ্ঠ অধ্যায়ে এর ওপর কর আরোপ করা হয়। জমি, ভবন, ফ্ল্যাট, শেয়ার ও ব্যবসা মূলধনী পরিসম্পদের অন্তর্ভুক্ত; ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তিগত স্বর্ণ, অলংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও এর আওতায় এসেছে। বেশিরভাগ মুনাফার ওপর করহার ১৫%। তবে স্বাভাবিক ব্যক্তি পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রি করলে স্বাভাবিক করহার প্রযোজ্য, আর ব্যক্তিগত স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রে করহার ৫%।

অর্থ আইন, ২০২৬ এর পাঁচটি বড় পরিবর্তন:

ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী মূলধনী পরিসম্পদ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

ডেভেলপারকে দেওয়া জমির জন্য আলাদা গণনার নিয়ম এসেছে।

হেবার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রির সময় উৎসে করের বদলে দানকর আদায় হবে।

ফার্ম থেকে কোম্পানিতে রূপান্তরে করমুক্তির নতুন বিধান এসেছে।

উৎসে কর এখন চূড়ান্ত কর নয়; এটি সমন্বয়যোগ্য ও ফেরতযোগ্য অগ্রিম কর।

এই নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট সকল আইনগত বিধান, গাণিতিক উদাহরণ এবং বৈধভাবে কর কমানোর বাস্তব পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

১. আইনগত ভিত্তি

করারোপণ সংক্রান্ত বিধান।

ধারা ৩০(ঙ) অনুযায়ী "মূলধনী মুনাফা" আয়ের সাতটি খাতের একটি।

ধারা ৫৭ অনুযায়ী মূলধনী পরিসম্পদের মালিকানা হস্তান্তর হতে উদ্ভূত মুনাফা ও লাভই মূলধনী মুনাফা। শর্তাংশ অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে হস্তান্তরিত হয়নি এমন পরিসম্পদের ধারণাগত লাভ (IAS/IFRS অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে দেখানো হলেও) মূলধনী মুনাফা নয়। তাই শেয়ারের অবাস্তবায়িত (Unrealized) লাভ করযোগ্য নয়।

ধারা ১৮(৫)(ক) অনুযায়ী মূলধনী মুনাফার ওপর অংশ ৭ ও সপ্তম তফসিলের বিশেষ হারে কর আরোপিত হয়।

"মূলধনী পরিসম্পদ", ধারা ২(৭৭)। এর অর্থ:

(ক) করদাতার ধারণকৃত যেকোনো প্রকৃতির সম্পত্তি;

(খ) কোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ, সামগ্রিকভাবে বা ইউনিট হিসেবে;

(গ) কোনো শেয়ার বা স্টক।

ব্যবসার মজুদ পণ্য, ভোগ্য পণ্য, কাঁচামাল এবং শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহার্য পোশাক, আসবাবপত্র ও যানবাহন এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

অর্থ আইন, ২০২৬ এই সংজ্ঞা প্রতিস্থাপন করেছে। ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ব্যবসায়িক পণ্য নয় এমন ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য, মূল্যবান ধাতু, রত্ন, ধাতব মুদ্রা, চিত্রকর্ম, এন্টিকস এবং ক্লাবের সদস্যপদ মূলধনী পরিসম্পদ।

"হস্তান্তর", ধারা ২(৯৩)। বিক্রয়, বিনিময়, পরিত্যাগ বা অধিকার বিলুপ্তি হস্তান্তরের অন্তর্ভুক্ত। নিচের ক্ষেত্রগুলো হস্তান্তর নয়, তাই মূলধনী মুনাফা নেই:

দান, উইল, অসিয়ত বা অপ্রত্যাহারযোগ্য ট্রাস্টের মাধ্যমে হস্তান্তর;

কোম্পানি অবসায়নে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন;

ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ বিলুপ্তিতে বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের বিভাজনে সম্পদ বণ্টন।

উত্তরাধিকারে সম্পদ আইনের বলে হস্তান্তরিত হয়, তাই ওয়ারিশদের প্রাপ্তির সময় কোনো কর নেই। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে স্থা঵র সম্পত্তির হেবার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রির সময় দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী দানকর আদায় হবে (নতুন ধারা ১২৫(২ক))। পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী, আপন ভাই বা আপন বোনকে দান দানকরমুক্ত।

২. মুনাফা নির্ণয় (ধারা ৫৮–৬১)

মূলধনী মুনাফা = বিক্রয়মূল্য − অর্জনমূল্য

বিক্রয়মূল্য, ধারা ৫৮(২)(ক)। নিচের দুটির মধ্যে যেটি বেশি:

ক: হস্তান্তর হতে প্রাপ্ত বা উপচিত অর্থ;

খ: হস্তান্তরের তারিখে পরিসম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্য।

অর্জনমূল্য, ধারা ৫৮(২)(খ)।

পরিসম্পদ কীভাবে অর্জিতঅর্জনমূল্য
ক্রয়ক্রয়মূল্য + স্বত্ব হস্তান্তর সংক্রান্ত খরচ + উন্নয়ন খরচ (ধারা ৩৮, ৪২, ৪৯, ৫০ বা ৬৪ অনুযায়ী ইতোমধ্যে অনুমোদিত না হলে)
উত্তরাধিকার (সাকসেশন বা পরম্পরাক্রম)মালিকানা অর্জনের তারিখে ন্যায্য বাজারমূল্য
দান, উইল বা অসিয়তমালিকানা অর্জনের তারিখে ন্যায্য বাজারমূল্য
ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রাপ্তমালিকানা অর্জনের তারিখে ন্যায্য বাজারমূল্য
কোম্পানি অবসায়ন, বা ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের বিভাজনে প্রাপ্তমালিকানা অর্জনের তারিখে ন্যায্য বাজারমূল্য

সময়, ধারা ৫৯। যে আয়বর্ষে হস্তান্তর হয়, মুনাফা সেই বছরের আয়।

ধারা ৬০। কোনো খরচের ওপর উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হলে, সেই কর কর্তন ও পরিশোধ না করলে খরচটি বাদ দেওয়া যাবে না।

ধারা ৬১, মূল্যায়ন সুরক্ষা ও অব্যাহতি।

৬১(১)। ন্যায্য বাজারমূল্য ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ১৫% এর বেশি হলে উপকর কমিশনার পরিদর্শী যুগ্ম-কর কমিশনারের পূর্বানুমোদনক্রমে বাজারমূল্য নির্ধারণ করবেন।

৬১(২)। বাজারমূল্য ঘোষিত অর্জনমূল্যের চেয়ে ২৫% এর বেশি হলে উপকর কমিশনার ঘোষিত মূল্যে পরিসম্পদটি কেনার প্রস্তাব দিতে পারেন।

৬১(৩)। অংশীদারি ফার্মের সকল সম্পদ নতুন কোম্পানিতে হস্তান্তর করে প্রাপ্ত মূল্য সেই কোম্পানির ইকুইটিতে বিনিয়োগ করলে মুনাফা করমুক্ত।

৬১(৪)–(৬), ২০২৬ সালে নতুন। শর্তসাপেক্ষে ফার্ম থেকে কোম্পানিতে রূপান্তরে মুনাফা করমুক্ত (এই নির্দেশিকার ৭ নং অংশ দেখুন)।

৩. করহার (সপ্তম তফসিল, অনুচ্ছেদ ১)

করহার নির্ভর করে কে বিক্রি করছেন, কী বিক্রি করছেন এবং স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে কতদিন ধরে রেখেছেন তার ওপর। সময় গণনা হয় অর্জন বা প্রাপ্তির তারিখ থেকে; উত্তরাধিকার বা হেবার ক্ষেত্রে প্রাপ্তির তারিখ থেকে।

বিক্রেতা ও পরিসম্পদকরহার
কোম্পানি, তহবিল বা ট্রাস্ট, যেকোনো মূলধনী পরিসম্পদ১৫%
অন্যান্য, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ১৫% (স্বাভাবিক ব্যক্তির প্রথম ৫০ লাখ টাকা করমুক্ত, ৫ নং অংশ দেখুন)
অন্যান্য, অন্য পরিসম্পদ, ৫ বছরের বেশি সময় ধরে রাখা১৫%
অন্যান্য, অন্য পরিসম্পদ, ৫ বছর বা তার কমমোট আয়ের সাথে যোগ হয়ে নিয়মিত করহার
অন্যান্য, ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য, অলংকার, রত্ন, ধাতব মুদ্রা, মূল্যবান ধাতু (নতুন দফা, অর্থ আইন ২০২৬)৫%
ডেভেলপারকে দেওয়া জমি (নতুন ধারা ৫৮(৩)–(৪))১৫%, তিনটি বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য

২০২৬-২৭ করবর্ষে স্বাভাবিক ব্যক্তির করহার। এগুলো স্বল্পমেয়াদি মুনাফার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অর্থাৎ পাঁচ বছর বা তার কম সময় ধরে রাখা পরিসম্পদের ক্ষেত্রে।

মোট আয়করহার
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা০%
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা২৫%
অবশিষ্ট৩০%

কিছু করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা বেশি:

মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতা: ৪.৫ লাখ টাকা;

তৃতীয় লিঙ্গের ও প্রতিবন্ধী করদাতা: ৫.২৫ লাখ টাকা;

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা: ৫.৫ লাখ টাকা।

৪. জমি, ভবন ও ফ্ল্যাট

মূল বিধান:

জমি, ভবন ও ফ্ল্যাট মূলধনী পরিসম্পদ, তবে আবাসন ব্যবসায়ীর ব্যবসার মজুদ হলে নয়।

দলিলমূল্যের অতিরিক্ত গৃহীত অর্থও মূলধনী মুনাফা; এটি ব্যাংক বিবরণী দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

রেজিস্ট্রির সময় উৎসে কর (ধারা ১২৫)। বিক্রেতা উৎসে কর পরিশোধ না করলে সাব-রেজিস্ট্রার বিক্রয় দলিল নিবন্ধন করবেন না।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রতিটি দলিলের বিপরীতে এ-চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

আইনে সর্বোচ্চ সীমা কাঠাপ্রতি ২০ লাখ টাকা, স্থাপনার বর্গফুটপ্রতি ১,০০০ টাকা অথবা দলিলমূল্যের ১০%, যেটি বেশি। এলাকাভিত্তিক প্রকৃত হার উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ এ নির্ধারিত।

ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির বন্ধকী বিক্রয়, ব্যাংকে বন্ধক এবং সুকুক SPV এর হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।

ডেভেলপারকে দেওয়া জমি (নতুন ধারা ৫৮(৩)–(৪))। জমির মালিক ফ্ল্যাট, নগদ অর্থ, সাইনিং মানি, বাড়িভাড়া বা অন্য সুবিধা পেতে পারেন।

মুনাফা = প্রাপ্ত সকল সুবিধার মোট মূল্য − জমির অর্জনমূল্য।

করহার ১৫%, যা চলতি ও পরবর্তী দুই করবর্ষে তিনটি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা যায়।

সাইনিং মানির ওপর ধারা ১১৫ অনুযায়ী কর্তিত কর সমন্বয় হবে।

রিটার্ন জমার প্রমাণ (ধারা ২৬৪)। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের জমি বিক্রয়ে রিটার্ন জমার প্রমাণ (PSR) দেখাতে হয়।

উদাহরণ ১: হেবাসূত্রে প্রাপ্ত জমি, দলিলমূল্যের অতিরিক্ত অর্থসহ বিক্রি। এটি আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২৭ এর উদাহরণ-১৩। একজন আইনজীবী জানুয়ারি ২০১৭ সালে পিতার কাছ থেকে হেবামূলে গুলশানের ৫ কাঠার একটি প্লট পান; হেবা দলিলে মূল্য ২৫ লাখ টাকা। জুন ২০২৬ সালে তিনি প্লটটি ৭ কোটি টাকায় বিক্রি করেন। দলিলে ৫ কোটি টাকা দেখানো হয়, বাকি ২ কোটি টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। রেজিস্ট্রির সময় ২৫ লাখ টাকা উৎসে কর পরিশোধ করেন।

বিবরণটাকা
দলিলমূল্য অনুযায়ী মুনাফা (৫,০০,০০,০০০ − ২৫,০০,০০০)৪,৭৫,০০,০০০
দলিলমূল্যের অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ২,০০,০০,০০০
মোট মূলধনী মুনাফা৬,৭৫,০০,০০০
কর ১৫% হারে (৫ বছরের বেশি সময় ধরে রাখা)১,০১,২৫,০০০
বাদ: রেজিস্ট্রির সময় প্রদত্ত উৎসে কর(২৫,০০,০০০)
রিটার্নের সাথে প্রদেয় মূলধনী মুনাফা কর৭৬,২৫,০০০

উদাহরণ ২: উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি, পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রি। সালমা মার্চ ২০২৩ সালে জমি উত্তরাধিকারসূত্রে পান; তখন এর বাজারমূল্য ছিল ৬০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালে তিনি ৯০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন; হস্তান্তর খরচ ১.৫ লাখ টাকা। তাঁর করযোগ্য বেতন আয় ১০ লাখ টাকা।

মুনাফা ২৮.৫ লাখ টাকা, যা বেতনের সাথে যোগ হবে।

মোট আয় ৩৮.৫ লাখ টাকার ওপর কর ৭,৬৫,০০০ টাকা; শুধু বেতনের ওপর কর হতো ৭৫,০০০ টাকা। ফলে জমি বিক্রির কারণে অতিরিক্ত কর ৬,৯০,০০০ টাকা, যা মুনাফার প্রায় ২৪%।

পাঁচ বছর পর বিক্রি করলে মুনাফার ওপর কর হতো ১৫% হারে ৪,২৭,৫০০ টাকা।

উদাহরণ ৩: ডেভেলপারের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফ্ল্যাট। এটি আয়কর নির্দেশিকার উদাহরণ-১৪। একজন জমির মালিক ২০১১ সালে ৭০ লাখ টাকায় ৫ শতাংশ জমি কেনেন। ২০২২ সালে তিনি জমিটি ডেভেলপারকে হস্তান্তর করেন এবং জানুয়ারি ২০২৬ সালে ১.৮ কোটি টাকা মূল্যের ৪টি ফ্ল্যাট পান।

মুনাফা = ১,৮০,০০,০০০ − ৭০,০০,০০০ = ১,১০,০০,০০০ টাকা

কর ১৫% হারে = ১৬,৫০,০০০ টাকা, যা ২০২৬-২৭, ২০২৭-২৮ ও ২০২৮-২৯ করবর্ষে বছরে ৫,৫০,০০০ টাকা করে পরিশোধ করা যাবে।

৫. শেয়ার ও সিকিউরিটিজ

ধরনবিধানধারা
তালিকাভুক্ত শেয়ার বা ইউনিট, সাধারণ বিনিয়োগকারী (স্বাভাবিক ব্যক্তি)এক বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করমুক্ত; অতিরিক্ত অংশে ১৫%। অবাস্তবায়িত লাভ আয় নয়।ষষ্ঠ তফসিল, অংশ ১, অনুচ্ছেদ ৩৬; সপ্তম তফসিল
তালিকাভুক্ত শেয়ার, কোম্পানি, তহবিল বা ট্রাস্ট১৫%সপ্তম তফসিল
তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা তহবিলের স্পনসর, পরিচালক বা প্লেসমেন্ট শেয়ারহস্তান্তরের আগে (হস্তান্তরমূল্য − অর্জনমূল্য) এর ওপর ১০% কর আদায়। ৫০ লাখ টাকার অব্যাহতি প্রযোজ্য নয়। পিতা-মাতা ও সন্তান এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দান এর বাইরে।ধারা ১৩৫
অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, নিবাসী বিক্রেতাহস্তান্তর নিবন্ধনের আগে (ন্যায্যমূল্য − অভিহিত মূল্য) এর ওপর ১৫% কর পরিশোধ। ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করবেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা BSEC অনুমোদিত মূল্যায়নকারী।ধারা ১৩৪
ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারএক্সচেঞ্জ মুনাফার ওপর ১৫% কর্তন করবেধারা ১৩৬
অনিবাসীর যেকোনো শেয়ার বিক্রিমূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ না করলে হস্তান্তর কার্যকর করা যাবে নাধারা ১১৯(৪)

উদাহরণ ৪: তালিকাভুক্ত শেয়ার। এটি আয়কর নির্দেশিকার উদাহরণ-১২। ১৫ লাখ টাকা ব্যবসায়িক আয়ের একজন করদাতা পুঁজিবাজারে ৬০ লাখ টাকা Realized Gain করেছেন; আরও ৩০ লাখ টাকা Unrealized Gain আছে।

অবাস্তবায়িত ৩০ লাখ টাকা বিবেচ্য নয়।

বাস্তবায়িত ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা করমুক্ত।

অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকার ওপর ১৫% হারে কর = ১,৫০,০০০ টাকা, যা ব্যবসায়িক আয়ের উপর নিয়মিত করের অতিরিক্ত।

উদাহরণ ৫: স্পনসর শেয়ার। এটি বোঝানোর জন্য কাল্পনিক উদাহরণ। একজন স্পনসর ২০ লাখ টাকায় শেয়ার কিনেছিলেন; ক্লোজিং মূল্যে সেগুলোর মূল্য ১ কোটি টাকা হলে তিনি হস্তান্তর করেন।

হস্তান্তরের সময় ধারা ১৩৫ অনুযায়ী কর = ১০% × (১,০০,০০,০০০ − ২০,০০,০০০) = ৮,০০,০০০ টাকা।

৮০ লাখ টাকা মুনাফার ওপর ১৫% হারে চূড়ান্ত কর = ১২,০০,০০০ টাকা। বাকি ৪,০০,০০০ টাকা রিটার্নের সাথে পরিশোধযোগ্য।

উদাহরণ ৬: প্রাইভেট কোম্পানির শেয়ার। এটি বোঝানোর জন্য কাল্পনিক উদাহরণ। একজন নিবাসী ২০১৮ সালে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১০,০০০টি শেয়ার (১০ লাখ টাকা) কিনেছিলেন। ২০২৬ সালে তিনি মূল্যায়নকারীর নির্ধারিত শেয়ারপ্রতি ২৫০ টাকা ন্যায্যমূল্যে (২৫ লাখ টাকা) বিক্রি করেন।

নিবন্ধনের আগে ধারা ১৩৪ অনুযায়ী কর = ১৫% × (২৫,০০,০০০ − ১০,০০,০০০) = ২,২৫,০০০ টাকা।

৫ বছরের বেশি সময় ধরে রাখায় চূড়ান্ত করও ১৫% × ১৫ লাখ = ২,২৫,০০০ টাকা। আর কিছু পরিশোধযোগ্য নয়।

৫ বছর বা তার কম সময় ধরে রাখলে ১৫ লাখ টাকার ওপর স্বাভাবিক করহারে কর হতো, আর ২,২৫,০০০ টাকা সমন্বয় হতো।

৬. ব্যক্তিগত স্বর্ণ, অলংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী (২০২৬-২৭ থেকে নতুন)

২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ব্যবসায়িক পণ্য নয় এমন নিচের সামগ্রী মূলধনী পরিসম্পদ:

ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য, স্বর্ণালংকার ও রৌপ্যালংকার;

রত্ন-হীরক, ধাতব মুদ্রা ও মূল্যবান ধাতু;

চিত্রকর্ম ও এন্টিকস;

ক্লাবের সদস্যপদ।

সপ্তম তফসিলের নতুন ৫% করহার প্রযোজ্য স্বর্ণ, রৌপ্য, অলংকার, রত্ন, ধাতব মুদ্রা ও মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রে। চিত্রকর্ম, এন্টিকস ও ক্লাবের সদস্যপদ এই দফায় উল্লেখ নেই, তাই এগুলোতে সাধারণ নিয়ম প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়: পাঁচ বছরের পরে ১৫%, পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাভাবিক করহার।

ক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ করুন এবং রিটার্নের সম্পদ বিবরণীতে এগুলোর মূল্য দেখান। অর্জনমূল্যের রেকর্ড না থাকলে পুরো বিক্রয়মূল্যই মুনাফা হিসেবে গণ্য হতে পারে।

উদাহরণ ৭: উপহার হিসেবে প্রাপ্ত স্বর্ণ। এটি আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২৭ এর উদাহরণ-৩। মিজ বুল্টি জানুয়ারি ২০২১ সালে মায়ের কাছ থেকে ৫ ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ উপহার পান এবং রিটার্নে এর মূল্য ২,৫০,০০০ টাকা দেখান। মে ২০২৬ সালে তিনি তা ৬,৮০,০০০ টাকায় বিক্রি করেন।

মুনাফা = ৬,৮০,০০০ − ২,৫০,০০০ = ৪,৩০,০০০ টাকা

কর ৫% হারে = ২১,৫০০ টাকা

উদাহরণ ৮: ক্রয়কৃত অলংকার। এটি আয়কর নির্দেশিকার উদাহরণ-১৪ থেকে নেওয়া। ২০১২ সালে ৮ লাখ টাকায় কেনা স্বর্ণালংকার ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

মুনাফা = ১২ লাখ টাকা

কর ৫% হারে = ৬০,০০০ টাকা

৭. ব্যবসায়িক ও কৃষি সম্পদ এবং পুনর্গঠন

অবচয়যোগ্য সম্পদ (ধারা ৪৬(২)–(৩) ও ৪০(২)–(৩))। ব্যবসায়িক বা কৃষি সম্পদ বিক্রি হলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ দুই খাতে ভাগ হয়। এখানে ক = বিক্রয়মূল্য, খ = অর্জনমূল্য, গ = অবশিষ্ট মূল্য (WDV)।

অর্জনমূল্যের বেশি দামে বিক্রি: ক − খ মূলধনী মুনাফা, আর খ − গ ব্যবসা (বা কৃষি) হতে আয়।

অবশিষ্ট মূল্যের বেশি কিন্তু অর্জনমূল্যের কম দামে বিক্রি: ক − গ শুধু ব্যবসা হতে আয়।

বীমা, স্ক্র্যাপ বা ক্ষতিপূরণ: সম্পদ বাতিল, ধ্বংস বা বিনষ্ট হলে একই ভাগ প্রযোজ্য।

উদাহরণ ৯: কোম্পানির যন্ত্রপাতি বিক্রি। এটি বোঝানোর জন্য কাল্পনিক উদাহরণ। একটি কোম্পানি ১০ লাখ টাকায় একটি যন্ত্র কিনেছিল; এর অবশিষ্ট মূল্য ৪ লাখ টাকা, আর এটি ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হলো।

বিবরণটাকাকর
মূলধনী মুনাফা (১৩ লাখ − ১০ লাখ)৩,০০,০০০১৫% = ৪৫,০০০ টাকা
ব্যবসা হতে আয় (১০ লাখ − ৪ লাখ)৬,০০,০০০কোম্পানির নিয়মিত করহার

ব্যবসা পুনর্গঠন (অষ্টম তফসিল, অংশ ১)।

একত্রীকরণ (Amalgamation)। মূলধনী পরিসম্পদ হস্তান্তরে কর নেই। তবে একত্রীকৃত কোম্পানির শেয়ার ব্যতীত অন্য প্রতিদান পেলে শেয়ারহোল্ডারকে কর দিতে হবে।

বিভাজন (Demerger)। ফলাফলস্বরূপ কোম্পানিতে সম্পদ হস্তান্তরে কর নেই। শেয়ার ব্যতীত প্রতিদান বা আনুপাতিক মূল্যের অতিরিক্ত শেয়ারমূল্য করযোগ্য।

ফার্ম থেকে কোম্পানিতে রূপান্তর।

ধারা ৬১(৩)। ফার্মের সকল সম্পদ নতুন কোম্পানিতে হস্তান্তর করে প্রাপ্ত মূল্য তার ইকুইটিতে বিনিয়োগ করলে মুনাফা করমুক্ত।

নতুন ধারা ৬১(৪)–(৬)। নিচের চারটি শর্ত পূরণ হলে ফার্ম থেকে কোম্পানিতে রূপান্তরের মুনাফা করমুক্ত:

ফার্মের সকল সম্পদ ও দায় কোম্পানির সম্পদ ও দায়ে পরিণত হবে;

সকল অংশীদার মূলধনের অনুপাতে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হবেন;

শেয়ার ছাড়া অন্য কোনো প্রতিদান নেওয়া যাবে না;

অংশীদারদের কমপক্ষে ৫০% ভোটাধিকার ৫ বছর বজায় রাখতে হবে।

শর্ত পরে ভঙ্গ হলে, করমুক্ত মুনাফা উত্তরাধিকারী কোম্পানির সংশ্লিষ্ট বছরে করযোগ্য হবে। ফার্মের সঞ্চিত লোকসান ও অনিঃশেষিত অবচয় কোম্পানিতে স্থানান্তরিত হবে।

অনিবাসী (ধারা ১১৯(৪))। অনিবাসীর মুনাফায় হওয়া শেয়ার হস্তান্তর কর পরিশোধের আগে কার্যকর করা যাবে না। কর চুক্তির সনদ থাকলে করহার কমতে পারে।

৮. উৎসে কর, অগ্রিম কর ও মূলধনী লোকসান

উৎসে কর এখন অগ্রিম কর, চূড়ান্ত কর নয় (নতুন ধারা ১৬৩, অর্থ আইন ২০২৬)। অংশ ৭ এর অধীন আদায়কৃত উৎসে কর, যেমন জমি (ধারা ১২৫), অতালিকাভুক্ত শেয়ার (ধারা ১৩৪), স্পনসর শেয়ার (ধারা ১৩৫) ও স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার (ধারা ১৩৬) হস্তান্তরে আদায়কৃত কর, রিটার্নে নির্ণীত মূলধনী মুনাফা করের সাথে সমন্বয় হবে।

করদায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ ফেরতযোগ্য বা পরবর্তী বছরে জের টানা যাবে।

কম হলে বাকি কর রিটার্নের সাথে পরিশোধ করতে হবে।

ব্যতিক্রম: শুধু ধারা ১৩৮ ও ১৩৯ এর অধীন কর, অর্থাৎ বাণিজ্যিক মোটরযান ও অভ্যন্তরীণ নৌযানের কর, চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য।

মূলধনী লোকসান (ধারা ৭০)।

মূলধনী লোকসান শুধু মূলধনী মুনাফার সাথে সমন্বয় করা যায়; বেতন, ব্যবসা বা অন্য আয়ের সাথে নয়।

সংশোধিত ধারা ৭০(৩) অনুযায়ী করমুক্ত, হ্রাসকৃত করহারের বা চূড়ান্ত করদায়ভুক্ত উৎসের লোকসান অন্য আয়ের সাথে সমন্বয় বা জের টানা যাবে না।

৯. বৈধভাবে মূলধনী মুনাফা কর কমানোর উপায়

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে রাখুন। স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এতে ৩০% পর্যন্ত করহারের বদলে সমহারে ১৫% প্রযোজ্য হয়। উদাহরণ ২ এ অপেক্ষা করলে ২,৬২,৫০০ টাকা সাশ্রয় হতো।

প্রথম দিন থেকেই অর্জনমূল্য প্রমাণ করুন।

উত্তরাধিকার বা হেবাসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের অর্জনমূল্য হলো প্রাপ্তির দিনের বাজারমূল্য।

সেই বছরেই রিটার্নের সম্পদ বিবরণীতে মূল্য দেখান। ওয়ারিশ সনদ, নামজারি, হেবা দলিল, নিকটবর্তী জমির দলিলমূল্য বা মূল্যায়ন প্রতিবেদন সংরক্ষণ করুন।

ক্রয়কৃত সম্পদের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য, রেজিস্ট্রেশন ও উন্নয়ন খরচের সকল রশিদ রাখুন।

বাজার স্থিতিশীল হলে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ দ্রুত বিক্রি করুন। বিক্রয়মূল্য উত্তরাধিকারকালীন মূল্যের কাছাকাছি হলে মুনাফা কম হয়, আর রেজিস্ট্রিতে দেওয়া করের বেশিরভাগ ফেরত পাওয়া যেতে পারে।

তালিকাভুক্ত শেয়ারে ৫০ লাখ টাকার অব্যাহতি কাজে লাগান। এটি একজন স্বাভাবিক ব্যক্তির এক আয়বর্ষের মুনাফার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বড় বিক্রয় দুই বা ততোধিক আয়বর্ষে ভাগ করুন, যাতে প্রতি বছর সীমার মধ্যে থাকে।

স্বল্পমেয়াদি মুনাফা একাধিক আয়বর্ষে ভাগ করুন। পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রিতে স্বাভাবিক করহার প্রযোজ্য হলে অংশ অংশ করে দুই আয়বর্ষে বিক্রি করলে মুনাফার বেশি অংশ নিচের ধাপে থাকে।

মূলধনী লোকসান সমন্বয় করুন। একই বছরে অন্য কোনো মূলধনী পরিসম্পদে লোকসান হলে তা মুনাফার সাথে সমন্বয় করা যায়।

উদ্দেশ্য প্রকৃত হলে বিক্রির বদলে নিকটআত্মীয়কে হেবা করুন।

হেবা হস্তান্তর নয়, তাই মূলধনী মুনাফা কর নেই।

স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা ও আপন ভাই-বোনকে দানে দানকরও নেই।

হেবা হতে হবে প্রকৃত। হেবার আড়ালে অর্থ লেনদেন হলে তা ছদ্মবেশী বিক্রয়।

ডেভেলপার চুক্তিতে কিস্তির সুযোগ নিন। ১৫% কর তিন বছরে ভাগ করলে নগদ প্রবাহে চাপ কমে। জমির অর্জনমূল্যের কাগজপত্র ঠিক রাখুন।

পুনর্গঠনের অব্যাহতি কাজে লাগান। ফার্ম থেকে কোম্পানিতে রূপান্তর, একত্রীকরণ বা বিভাজনের মাধ্যমে শর্ত পূরণ ও বজায় রেখে করমুক্তভাবে সম্পদ স্থানান্তর করা যায়।

ক্রেডিট ও ফেরত দাবি করুন। ধারা ১৬৩ অনুযায়ী উৎসে কর এখন অগ্রিম কর; রিটার্নে দাবি করুন এবং অতিরিক্ত অংশ ফেরত নিন।

যা করবেন না।

দলিলমূল্য কম দেখিয়ে বাকি অর্থ নগদে নেওয়া কর ফাঁকি, কর পরিকল্পনা নয়। বাজারমূল্য ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ১৫% এর বেশি হলে কর কর্তৃপক্ষ মূল্য পুনঃনির্ধারণ করতে পারে (ধারা ৬১(১)), এবং জরিমানার ঝুঁকি থাকে।

দলিলমূল্যের অতিরিক্ত নগদ অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করা যায় না, তাই এটি সম্পদের উৎস হিসেবে দেখানো যায় না।

Justice Corner কীভাবে সহায়তা করে। আমরা লেনদেনের আগেই বিক্রেতা, ওয়ারিশ, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিই: করদায় হিসাব করি; বিক্রয়, হেবা ও ডেভেলপার চুক্তি সাজাই; দলিল প্রস্তুত করি; এবং সকল ক্রেডিট ও ফেরতের দাবিসহ রিটার্ন দাখিল করি। সই করার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলুন।

এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্য হিসেবে প্রণীত; এটি কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনগত পরামর্শ নয়।

তথ্যসূত্র:

আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন), এস.আর.ও নং ৪০৪-আইন/২০২৫ এর মাধ্যমে প্রকাশিত ইংরেজি পাঠ (১৬ অক্টোবর ২০২৫)

আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২৭, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২৭, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন)

সম্পত্তি নিবন্ধনে দানকর সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্পষ্টীকরণ (৭ জুলাই ২০২৬)